বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সংকট নাই এ কথা বলার সুযোগ নেই। সংকট আছে, দেশের ভেতরে না, সংকট দেশের বাইরে। বাংলাদেশে যেমন সংকট সারাবিশ্বে একই সংকট। আমরাই একমাত্র দেশ যে খুব দেরি করে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছি।’
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বরস্বতি জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। তাও কীভাবে উচ্চ মূল্য দিয়ে যেভাবে আনতে হচ্ছে, সরকারের তো সামর্থ্যের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং সরকার চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। সুতরাং আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। এজন্য আমাদের সকলের মিলে কৃচ্ছতাও সাধন করতে হবে। আবার সাথে সাথে যাতে লাইট অফ না হয়, যাতে ফ্যাক্টরি বন্ধ না হয়; আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ম্যানেজমেন্ট খুবই ভালো। তবে সমস্যা নাই এই কথা বলার তো সুযোগ নেই।’
সরকারের কার্যক্রম ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখবেন আমরা সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। বিরোধী দলসহ একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানে ট্রান্সপারেন্সি। আমরা পুরো বিষয়টা স্বচ্ছতার সাথে হ্যান্ডল করছি। এখানে লুকোচুরি কিছু নেই। দেশ তো সকলের, বিএনপির তো দেশ না। আমাদের জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনার, তো আমরা যা করছি স্বচ্ছতার সাথে।’
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে গিয়েছে। ব্যাংকগুলো সব লুটপাট করে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটাকে তো রিকভার করার দায়িত্ব বিএনপির কাছে এসেছে। এমন একটা সময় এসেছে—যখন ব্যাংকগুলো সব খালি, শেয়ারবাজার ধ্বংস। জনগণের অর্থ ব্যাংক থেকে নিতে পারছে না। যারা ডিপোজিট রেখেছে, তারা তো পাচ্ছে না। এর থেকে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না। এটাকে ফিরিয়ে আনতে সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি। এবং বিএনপি কিন্তু সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে।’
উল্লেখ্য, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ (কেন্দ্রীয় মন্দির) উদ্বোধন করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত এই মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে তৎকালীন প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর পূর্ণাঙ্গ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
মনোরম স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত এই মন্দিরের মূল স্থাপনা নির্মাণে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। ট্রাস্টি শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও শ্রীমতী অনিতা চৌধুরীর ব্যক্তিগত অনুদানে এটি বাস্তবায়িত হয়।
কেকে/ এমএস