জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
পরে অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু জানান, আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো থাকায় খায়রুল হক এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।
এর আগে, গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায়ও তিনি জামিন পান। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
জানা যায়, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানা, ফতুল্লা থানা ও বন্দর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে।
সবগুলো মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে জামিন মঞ্জুর করেন, যা আজ আপিল বিভাগ বহাল রাখলো।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি তিনবার বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কেকে/ এমএস