জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘এফইসি-বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ কাউন্সিল (এফইসি) ও টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক রূপান্তরের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে আরো বলা হয়, ‘১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল কর্মক্ষম যুবশক্তি ও গত এক দশকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে।’
বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেছে, তা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
মো. দাউদ আলী বলেন, ‘জাপান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি অনন্য উদাহরণ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রথাগত খাতের বাইরেও উদীয়মান খাত তথা আইটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাপানি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।’
সেমিনারে এফইসির প্রেসিডেন্ট কেন মাতসুজাওয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আজকের এই ফোরাম জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদূরপ্রসারী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
সেমিনারে দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ সফিউল আজম পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৩তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অব্যাহতি ও ১০০ শতাংশ বৈদেশিক মালিকানা বজায় রাখার সুযোগসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রণোদনার কথা তুলে ধরা হয়।’
সেমিনারের মতবিনিময় পর্বে দাউদ আলী জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের শ্রম বাজারের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ হতে জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কেকে/এমএ