রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেকমোর (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দ্রুত একজন সেকমো (ডাক্তার) পদায়ন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিজিটরকে চাকরিবিধি অনুযায়ী নিয়মিত সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়ার দাবিতে রংপুর-১ আসনের সাংসদ মো. রায়হান সিরাজীর কাছে আবেদন করেছেন বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সামছুল হুদা।
আবেদনপত্র অনুলিপি গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বড়বিল ইউনিয়ন রংপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন। প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে। কিন্তু ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেকমো না থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রায় দুই বছর আগে কর্মরত সেকমো (ডাক্তার) ও ভিজিটরের মধ্যে মতবিরোধের জেরে ওই চিকিৎসক স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত দায়িত্বেও কোনো চিকিৎসককে নিয়মিত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
আবেদনপত্রে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রে কর্মরত ভিজিটর চাকরিবিধি অনুযায়ী নিয়মিত উপস্থিত থেকে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছেন না। ইউপির পক্ষ থেকে সরকারি কোয়ার্টার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখানো হয়নি।
সামছুল হুদা বলেন, ‘‘পূর্বে ল্যাম্ব নামের একটি এনজিও ওই কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি সেবা দিত এবং মাসে প্রায় ৩৫-৪০টি প্রসবসেবা দেওয়া হতো। পরে আরডিআরএস তিন বছরের জন্য এ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও কর্মরত ভিজিটরের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে মাত্র দুই মাস পর তারা বড়বিল ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়।’’
গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি থাকলেও গত তিন বছরে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান।
তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সামছুল হুদা বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজানুল হাসান বলেন, “সংসদ সদস্য মহোদয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
রায়হান সিরাজী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/এমএ