বাজেটে নিত্যপণ্যের মূল্য কমিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলেও ভিন্ন চিত্র ঢাকার বাজারে। সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ডাল, ছোলা ও মুরগির মূল্যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সবজির দাম কিছুটা কম থাকলেও ডাল-মুরগির দাম বাড়ায় পুরো বাজেট ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এক জিনিস কমলে আরেক জিনিস বেড়ে যাচ্ছে, ফলে স্বস্তি মিলছে না।’
বাজারে বেশিরভাগ সবজি এখন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম তুলনামূলক বেশি, কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৭০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা ও ঝিঙে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, ‘সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে।’
কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শামীম হোসেন বলেন, ‘এখন বাজারে সবজি মোটামুটি নিয়মিত আসছে, তাই দাম খুব বেশি বাড়েনি। তবে সরবরাহে সমস্যা হলে আবার দাম বাড়তে পারে।’
অন্যদিকে ডালের বাজারে দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বগতি। মোটা দানার মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৯০ টাকা। চিকন দানার মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়, আগে ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।
ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯৫-১০০ টাকায়; দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৮০-৮৫ টাকা। চিকন দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, আগে ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০৫ টাকা।
মুদি দোকানি মামুন কবির বলেন, ‘পাইকারি দামে কিছুটা চাপ আছে। তাই খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। আমরা বেশি দামে কিনলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না।’
এদিকে, মুরগির বাজারে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম সপ্তাহ ব্যবধানে ৩০-৫০ টাকা বেড়ে এখন ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০-৩৮০ টাকায়।
মুরগি বিক্রেতা বুলবুল হোসেন বলেন, ‘সোনালি মুরগির খামার পর্যায়ে মূল্য বেড়েছে, তাই খুচরাতেও বেড়েছে। ব্রয়লারের সরবরাহ ভালো থাকায় মূল্য স্থিতিশীল আছে।’
কেকে/এমএ