টানা তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধলাখ পরিবার। বৃষ্টির পানিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। পৌরসভার ৫, ৭ ও ৮ ওয়ার্ডের হরিনহাটি, মোল্লাপাড়া, বিশ্বাসপাড়া ও কালামপুরসহ আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক ও সাধারণ বাসিন্দারা।
প্রায় ১৬টি কারখানার ভিতর পানি ঢুকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ময়লাযুক্ত ড্রেনের পানি বিভিন্ন বাসায় ঢুকে আসবাবপত্রসহ নষ্ট হয়ে গেছে মূল্যমান জিনিসপত্র। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা ও পানি নিস্কাশনের অব্যবস্থাপনা- দুইটিকে ভোগান্তির কারণে হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ভোগান্তির হিসেবে অপরকল্পিত নগরায়ণ ও পৌরসভার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে টানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বুক সমান পানি।
বৃষ্টির পানি কারখানায় প্রবেশ করায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের দুইটি শাখা, এপেক্স র্ফামা, সটারলিং ফ্যাসন, আরএল নিটিং, মন্ডল গ্রুপ, লিভার্টি এপারেলস ও ডিভাইংসহ প্রায় ১৫টি শিল্প কারখানা এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিস্কাশনের জন্য পৌরসভার যে ড্রেনগুলো রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রশস্ত না করায় এ জলাবদ্ধতার মূলল কারণ।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন, শরিফ আহমেদ ও টুটুল জানান, বিশ্বাসপাড়া ও হরিনহাটিসহ পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এসব অঞ্চলের জন্য দুইটি ড্রেন রয়েছে। একটি হরিনহাটি এলাকা হয়ে মাটিকাটার দিকে চলে গেছে। অন্যটি বিশ্বাসপাড়া আনসার একাডেমি হয়ে চলে গেছে। এই দুইটি ড্রেনের মূল মাথায় তিনটি বহুতল ভবন তৈরি করেছেন ভবন মালিকরা। আর এই খাল দখল করে ভবন নির্মাণে পৌরসভার অনুমতি কিভাবে নিলো- এটা আমাদের বৌধকাম্য নয়। আনসার একাডেমির তিন নাম্বার গেইটের সামনে যে ড্রেনের কালর্ভাট রয়েছে, সেটি বন্ধ করে দিয়ে বহুতল ভবন নির্মান ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিশ্বাসপাড়া ও হরিনহাটি এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে।
তারা আরও জানান, আমরা তাদের অনেকবার বলেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। এসব এলাকায় শিল্প কারখানার শ্রমিকরা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বৃষ্টির পানি ওইসব বাড়িতে ঢুকায় প্রায় গলাসমান তলিয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের জিনিসপত্র বের করতে না পাড়ায় পনিতে নষ্ট হয়ে গেছে।’
জেলা মোটরমালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ন সম্পাদক দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচ্ছায় জনবল নিয়োগ করেছি। পাশাপাশি আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই কাজ করছি।’
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, ‘জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। ড্রেনেজের ময়লা পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের জন্য জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করছি, জলাবদ্ধতা কমে যাবে।’
কেকে/এমএ