লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১২০ জনের রোগী ভর্তি আছেন। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হোক।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শয্যার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা বারান্দা এবং মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী জানান, চিকিৎসাসেবা পেলেও পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।
তারা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। অথচ ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই ১০০-১২০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, “উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে সবাইকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষর চিকিৎসাসেবা ভোগান্তি কমে যাবে।”
বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি একটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হলে হৃদরোগসহ জটিল রোগের চিকিৎসা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে যদি ৫টি উপজেলাকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হয়, তাহলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেই তালিকায় থাকার যোগ্য দাবিদার। রায়পুরবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, হাসপাতালটিকে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হোক।”
সচেতন মহল মনে করেন, জনসংখ্যা ও রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বাড়বে এবং রোগীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।’
কেকে/এমএ