সূর্যের আলো শরীরের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত রোদে থাকাও তেমন ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ঠিক কতটা রোদ দরকার—এ প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য এক নয়। বয়স, ত্বকের ধরন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রার ওপর প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় রোদে থাকার চেয়ে অল্প সময় করে নিয়মিত সূর্যের আলো নেওয়া বেশি উপকারী। ভিটামিন ডি তৈরির ক্ষেত্রে দিনের মাঝামাঝি সময়ের সূর্যালোক বেশি কার্যকর, কারণ তখন ইউভিবি রশ্মির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
যাদের ত্বক ফর্সা, তাদের ক্ষেত্রে সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনে হাত, বাহু বা পায়ের কিছু অংশ খোলা রেখে কয়েক মিনিট রোদে থাকাই যথেষ্ট হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা খুব বেশি, সেখানে সকাল বা বিকেলের তুলনামূলক নিরাপদ সময়ে অল্প সময় রোদ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গাঢ় ত্বকের মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ ত্বকের মেলানিন সূর্যের ইউভিবি রশ্মির একটি অংশ শোষণ করে। যুক্তরাজ্যে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে গাঢ় বাদামি ত্বকের মানুষের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরিতে দুপুরের রোদে প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যাদের ত্বক খুব ফর্সা, শরীরে অনেক তিল রয়েছে, নিজের বা পরিবারের কারও মেলানোমার ইতিহাস আছে কিংবা যারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ খান, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অল্প রোদও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রোদের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের খুব সকাল বা শেষ বিকেলের আলোতে ইউভিবি তুলনামূলক কম থাকলেও ইউভিএর অনুপাত বেশি হতে পারে। ইউভিএ ত্বকের অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অল্প সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সূর্যালোক নেওয়া এবং এরপর ত্বক ঢেকে রাখা নিরাপদ পদ্ধতি হতে পারে।
শীতকালে অনেক জায়গায় সূর্যের ইউভিবি রশ্মি কমে যায়। ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরির জন্য বাইরে তুলনামূলক বেশি সময় কাটাতে হতে পারে। আবার কিছু অঞ্চলে শীতকালে সূর্যের আলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন ডি তৈরি করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো—স্বাস্থ্যের জন্য অল্প থেকে মাঝারি পরিমাণ সূর্যালোকই যথেষ্ট; দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ছাড়া তীব্র রোদে থাকা প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও ইউ মাত্রা অনুযায়ী রোদে থাকার সময় ঠিক করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন, পোশাক ও সানগ্লাস ব্যবহার করাই নিরাপদ পথ।
সূত্র: বিবিসি
কেকে/সাশ