শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা : ডিএমপি      ● বাংলাদেশিদের জন্য হঠাৎ মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা      ● গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক      ● জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● প্রথম দফায় বাদ পড়া শিশুদের জন্য দ্বিতীয় দফায় হাম টিকাদান শুরু      ● আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● সোনা-রূপার দাম কমাল বাজুস      
জাতীয়
টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা : ডিএমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার মিরপুর-১’-এর বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান।

স্পেসিফিক একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, উনি সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসী মিষ্টি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং সে সময় তিনি পুলিশকে ব্যবহার করেই ঘটনা ঘটিয়েছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলা হয়েছে, আমরা মামলা তদন্ত করছি। মামলা তদন্তেই এই ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।’

থানার মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে লুটপাট করা হয়েছে, ট্রাক নিয়ে আসা হয়েছে, এখানকার মালপত্র ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আপনি কী বলবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটি জনাকীর্ণ জায়গায় এটা তো নিশ্চয়ই দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ধ্বংস করা হয়েছে, আমি আজকে পরিদর্শন করে যা দেখলাম, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়। এটা সময় নিয়েই করা হয়েছে। বিশেষ করে দুই পাশে টিনের শেড আছে, টিনের শেডগুলোও বিনষ্ট করা হয়েছে, ভাঙা হয়েছে এবং বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় আমি যে আলামত দেখতে পেয়েছি। এটাও আমি জানতে পেরেছি বিল্ডিংয়ের মধ্যে ল্যাব ইকুইপমেন্টের অনেক যন্ত্রপাতি পাওয়া যাচ্ছে না, যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

‘এ ঘটনা আমাদের নলেজে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিসি, মিরপুরকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি এবং মামলা রেকর্ড হয়েছে। চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। যারা এখানে জড়িত এজাহারে নাম উল্লেখ করে ২০০-২৫০ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা হয়েছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে পারবো। পাশাপাশি অন্য যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে আমরা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। পুলিশের অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পারবো।’

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল যখন ভাঙচুর করা হয়েছে, এ ঘটনায় পুলিশও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা এ ধরনের একটি ঘটনা প্রিভেন্ট করা অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা দেখছি, পুলিশের এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। পুলিশ জানার পরেও পুলিশ সময়মতো এসেছিল কিনা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা আছে কিনা, সবকিছু দেখা হবে।’

‘এ ঘটনায় এরই মধ্যে এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে তিনজন বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি আজকের (শনিবার) মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশের কোনো সদস্যের যদি অবহেলা থাকে, গাফিলতি থাকে, সেটা আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।’

এক প্রশ্নের উত্তরে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো দল দেখব না, কোনো মত দেখব না। সবসময় দেখব অপরাধীকে, অপরাধী যে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। আমরা সব সময় একটি ব্যাপারে সজাগ, যেকোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, কোনো দখল, কোনো বেআইনি কার্যক্রম, আইনবহির্ভূত কার্যক্রম সেটা কেউই করতে পারবে না। সেটা যে-ই করবে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিত। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না এবং অপরাধীর কোনো সামাজিক পরিচয় দেখবো না।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভাঙচুর ও লুটপাটের পর দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়।

শুক্রবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, প্রায় ২৫০ জনের মুখোশ পরা একটি দল ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে ক্লিনিকে হামলা চালায়। তারা কর্তব্যরত দুইজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে ক্লিনিকের দখল নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সেখানে প্রবেশে বাধা দেয়।

ডা. নাসরিনের দাবি, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পদ্ধতি, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে গেছে।

এছাড়া একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুইটি টিভি, দুইটি কম্পিউটার, দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি প্রিন্টার ও বিভিন্ন আসবাবপত্রও লুটের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেডের একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।’

‘শুধু যন্ত্রপাতি ও মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে সরকারি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রটি দখল ও ভাঙচুরের কারণে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।’

ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক। 

‘তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, দেশের দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপরও আঘাত।’

ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার   মিরপুর   ডিএমপি   মোসলেহ উদ্দিন আহমদ   ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close