সরকার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দীর্ঘদিন ধরে ৫ শতাংশের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং প্রথমবারের মতো এটি ৭.৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বরাদ্দ একইসাথে জিডিপির ১.০১ শতাংশ, যা আগে ছিল মাত্র ০.৫৮ শতাংশ।
তবে, বর্ধিত বরাদ্দ জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি খাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। অথচ এ খাতে বরাদ্দ করা হয় মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা ও ওষুধে ১ টাকা বিনিয়োগ করলে সামগ্রিকভাবে ১৮ টাকার সুফল পাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা প্রগতির জন্য জ্ঞানের (প্রজ্ঞা) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বিনিয়োগ করা হলে বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।”
কেকে/এমএ