বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর ২০২২ সালের ২৬ জুন হতে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল হিসেবে মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন বর্তমানে যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। আজ আনন্দের সাথে আমরা দেশবাসীকে জানাতে পারি, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ভাগ্যই বদল করেনি, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনো কিস্তি বকেয়া না রেখে যথাসময়ে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।’
‘বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই আর্থিক শৃঙ্খলা ও টোল আদায়ের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা অর্থ বিভাগের সব ঋণ পরিশোধ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ" বিনির্মাণে সেতু খাতের অবদান কাজে লাগাতে পারবো।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সরকারের অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে সুদসহ মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতি অর্থবছরে চার৪ কিস্তিতে মোট ১৪০টি কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধ করা হবে। আদায়কৃত টোল হতে এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে; কোনো কিস্তি বকেয়া নেই। এছাড়া, মোট আদায়কৃত টোলের ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ মোট ৪৩৬ কোটি ৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারের কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
‘দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইউনিফাইড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনইএফ)ও অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিরলসভাবে কর্মরত।’
পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধ ও টোল আদায় কার্যক্রম নিয়ে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০০২-২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করা হয়। সমীক্ষায় নির্ধারিত ৪-লেনের হাইওয়ে এবং ভবিষ্যতে রেল সংযোগের প্রাথমিক সংস্থান সম্বলিত কারিগরি প্রস্তাবটি পরবর্তী সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের মুখ্য ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আরও বলে, ‘ওই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। ওই অনুমোদনের ফলে মাওয়া-জাজিরা রুটটিই দেশের ইতিহাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্ত করার একমাত্র প্রধান রুট হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়। সেতুর সংযোগ সড়ক এবং মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তে নদী শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সীমানা নির্ধারণ ও প্রাথমিক নকশা তৈরি করা হয়। ২০০২-২০০৫ মেয়াদের প্রক্রিয়াই পরবর্তী নকশা চূড়ান্তকরণ এবং মূল নির্মাণ কাজে যাওয়ার পথকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল।’
কেকে/এমএ