বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম      হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০৩      বস্ত্রশিল্পের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের      রাজধানীর হাজারীবাগে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত      মুক্তি পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা      রংপুর কারাগারে ছামিউল সাম্রাজ্য      
শিক্ষা
শ্রীমঙ্গলে কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে প্রবেশপত্র জটিলতায় ৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থী
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা দেওয়ার পরও এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় কেন্দ্রে এসে বিপাকে পড়েন। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায় ওই শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের ৯জন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশেন ফি দিয়ে ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষার কয়েক দিন আগ থেকে শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি। কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড সরবরাহ করতে আজ-কাল তারিখ করেও পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দিতে পারেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সর্বশেষ বুধবারও (১ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারেন, তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। 

ভুক্তভোগীরা হলেন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া ও শ্রাবন্তী শীল। এর মধ্যে বৃষ্টি আক্তার নামে অনিয়মিত এক শিক্ষার্থীরও এডমিট কার্ড আসেনি। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র ছাড়া তারা শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের আটকে দেন। এ সময় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নাকাটি ও হইচই শুরু করেন। খবর পেয়ে ইউএনও কলেজে যান। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান। একইসঙ্গে মোবাইলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। 

তানিয়া অক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের টাকা আমরা গত রমজান মাসেই কলেজে জমা দিয়েছি। বাবরবার কলেজে যোগাযোগ করার পর এখন পর্যন্ত এডমিট কার্ড পাইনি। পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘন্টা পর ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি।’

শ্রাবন্তী শীল বলেন, ‘এডমিট কার্ড না পাওয়ায় আমরা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেই। কিন্তু আমাদের মাত্র ২০ মিনিটি সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা লেখতে পারিনি। আমরা পরীক্ষায় ফেইল করলে এর দায়ভার কে নেবে?’

দীপা কাহার বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমরা কলেজে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দেই। এডমিট কার্ডের জন্য কলেজে কয়েক দিন গিয়েছি। শুধু তারিখ করা হয়েছিল আজ-কাল, সকাল-বিকেলে দেওয়া হবে। সর্বশেষ বলা হয়, পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় দেওয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার দিনও আমরা পাইনি। এঘটনায় আমরা শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত। আমরা মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে ৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে কথা বলতে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অভিযুক্ত অনিক দেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, ‘যে ৮ জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আইছে না, আমার নলেজে আছিল না। আজকে বিষয়টি জেনেছি, তারা সবাই কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের কাছে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিল। পরে ইউএনও এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’

ফরম ফিলাপের টাকা দেওয়ার পরও এডমিট কার্ড না পাওয়ার দায় কার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দায় কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং যেহেতু আমি দায়িত্বে আছি আমারও।’

মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে কলেজের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, অসচেনতার অভাবে ৯জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড আসেনি। পরবর্তী সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। সে অনুযায়ী বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এ ঘটনায় দায়িদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রীমঙ্গল   কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি   প্রবেশপত্র জটিলতা   এইচএসসি পরীক্ষার্থী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close