রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ভয়াবহ নাশকতার ছক আওয়ামী লীগের      একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ভর্তি শুরু রোববার      রাজধানীতে পৃথক স্থানে তিন বাসে আগুন      রাজধানীতে চলন্ত বাসে আগুন      নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর হবে যেভাবে      বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে কুবি শিক্ষিকার নিখোঁজ ছেলের লাশ উদ্ধার      ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৫      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ভয়াবহ নাশকতার ছক আওয়ামী লীগের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতারা দেশের বাইরে পালিয়ে যান। আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। পরে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। তবে এতদিন অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও অতিসম্প্রতি নতুন কৌশলে সংগঠিত হওয়ার অপচেষ্টা করছে দলটির নেতাকর্মীরা। 

ভারতে অবস্থানরত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসে রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন। এখানে থেকে সংগঠিত হয়ে ঝটিকা মিছিল ও অনলাইন তৎপরতা চালাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। দলীয় সূত্র ও দলটির নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতায় বিষয়গুলো সামনে আসছে।

সম্প্রতি ভারতে বসে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণাকে ঘিরেই দলটি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের স্থানে ঝটিকা মিছিল করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটছে।  

বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণ করে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত শুক্রবার ঢাকার বেশ কয়েক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও মিরপুরে বাস পোড়ানো হয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, গোপন বৈঠক ও অনলাইন তৎপরতা নিয়ে সতর্ক হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব প্রতিরোধে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুলশানের ওই ঘটনার মতো দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও অনলাইন তৎপরতার মাধ্যমে নিজেদের সক্রিয়তা জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বরিশাল, বাগেরহাট ও নেত্রকোণায় এ ধরনের মিছিল বা মিছিলের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপরও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো এলাকায় এমন কর্মসূচি হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। গুলশানের ঘটনার পর ডিসি ও ওসি প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে এর বাস্তব প্রয়োগও দেখা গেছে। এদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি কথোপকথন নিয়েও আলোচনা চলছে। 

সংশ্লিষ্টদের একাংশের আশঙ্কা, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যে দলীয়করণ হয়েছিল, তার প্রভাবের কিছু অংশ এখনো রয়ে গেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের আস্থাভাজন হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে। তা ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত সাবেক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে আলোচনা রয়েছে। 

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি বিদেশে বসে পুলিশের বর্তমান ভূমিকা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে বিভ্রান্তি বা অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, কোনো পেশাদার বাহিনীর সদস্য হিসাবে কেউ যদি রাজনৈতিক আশ্রয় বা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে কথা বলেন, তবে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু সদস্যকে অর্থায়নের মাধ্যমে আবার তৎপর করার চেষ্টা চলছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভেতরে থাকা আওয়ামী লীগপন্থি কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনলাইনেও তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। 

জানা যায়, বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

পুলিশের একজন সাবেক আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের মূল কাজ। রাজনৈতিক পক্ষপাত না করে পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বিগত সময়ে পুলিশে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্যের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা উচিত নয়। 

আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজধানীতে ২০০ চেকপোস্ট : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গত শুক্রবার ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করেছে পুলিশ। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০০টিরও বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আউটগোয়িং ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যাত্রাবাড়ী থানার কম্পাউন্ডের দেওয়াল ঘেঁষে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়, অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়। পাঁচ মিনিট পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইনকামিং ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। এতে মো. ইবাদুর রহমান (২৬) নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। মগবাজার চৌরাস্তা মোড়ে শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রাত ১০টায় মিরপুরের কাফরুল এলাকায় একটি থেমে থাকা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত দৃষ্কৃতকারীরা। 

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এ ধরনের বিস্ফোরণ কারা ঘটাতে পারে, জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। 

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, গুলশান এলাকায় মিছিলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বা সংগঠনের যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভয়াবহ   নাশকতা   আওয়ামী লীগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close