শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু ১৯ মার্চ      সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      একসঙ্গে ৯৯ বিচারককে বদলি—কারা গেলেন কোথায়?      গুলশান-ধানমন্ডিসহ ঢাকার পাঁচ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ      হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৪৩      উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : ইসি      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পোশাক শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তায় পাঁচ দাবি
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বৈশ্বিক বাজারের চাপের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় বাধা জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে ব্যবসার ব্যয়ও। তবে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। সরকারের এ উদ্যোগকে শিল্পবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, “সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।” এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং ল্যান্ড-বেসড এলএনজি স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ‘গ্রিন লোন’ নিশ্চিত এবং গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে দেশের উপকূলীয় এলাকায় অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত জোরদারেরও দাবি জানান তিনি। 

গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, “গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে।

তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। তারপরও সময়মতো পণ্য পাঠাতে উদ্যোক্তারা চেষ্টা করেছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে।” পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

আরও এফএসআরইউ নয়, স্থলভিত্তিক স্টোরেজ চায় বিজিএমইএ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আরও দুটি অতিরিক্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ল্যান্ড-বেইজড স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি।

তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি এরই মধ্যে হয়েছে। তবে এর বাইরে একাধিক এফএসআরইউ আনার পরিবর্তে স্থলভিত্তিক স্টোরেজ ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় বিজিএমইএ।”

তার ভাষ্য, তিন, চার বা পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপন করলেও বিতরণব্যবস্থা ঠিক না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি গ্যাস বিতরণ লাইন উন্নয়নের কাজও একই সঙ্গে করতে হবে।

এছাড়া এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কম সুদের ‘গ্রিন লোন’ এবং উপকূলীয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত জোরদারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

সৌরবিদ্যুতে বাড়ছে জোর

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নিজেদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, তিনি ২০১৯ সাল থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা জানান তিনি।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সদস্য কারখানাগুলোতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে দীর্ঘ সময়ের রিটার্ন এবং সুদের হার বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় কম সুদের গ্রিন ফাইন্যান্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় বাড়ানোর আশা

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় তিন বছর পেছানোর জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যবসায়ী মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি পাস হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত বৈঠকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

ইইউর সঙ্গে এফটিএকে অগ্রাধিকার

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মাহমুদ হাসান খান।

তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ পাওয়া, জিএসপি প্লাস নয়।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আলোচনাও অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ 

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “গত এক দশক ধরে নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার বাইরে থাকা বাজারগুলো থেকে।”

হংকংয়ে এইচএসবিসির উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় রোডশোতে নতুন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসায় আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে বিজিএমইএ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে। জাপানি ভাষায় যোগাযোগে সক্ষম কর্মকর্তাদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের জাপানমুখী রপ্তানি আগামী দিনে দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে শুধু কম দামের পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবননির্ভর ও আধুনিক শিল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। 


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  পোশাক শিল্প   জ্বালানি সংকট   বিজিএমইএ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close