মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে পাঁচ হাজার      ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত, ভোট শুরু ১২ নভেম্বর       হাম উপসর্গে আরও আটজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৩২      আগামীকাল থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর      ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, তবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: স্পিকার      ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায় মঙ্গলবার      ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবিতে এখনও নিখোঁজ ১২৯, উদ্ধারে জোর তৎপরতা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
গরিবের পাউরুটিতেও বাড়তি খরচের বোঝা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ এএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২৬ ৯:৫০ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে চাপে সাধারণ মানুষের সংসার। এর মধ্যে এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে বেকারিপণ্য। ১০ টাকার পাউরুটি ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটি ২০ এবং ২০ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। বেকারি মালিকদের সংগঠন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে কোথাও কোথাও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য তুলনামূলক সস্তা খাবার হিসেবে পরিচিত বেকারিপণ্যও এখন অনেকটা নাগালের বাইরে। 

চিনি, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল ও ডালডার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারিপণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। কিন্তু বাজারে ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ৩০ শতাংশ, কোথাও ৪০ এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আবার কোনো কোনো বেকারি দাম না বাড়িয়ে কমিয়ে দিয়েছে পণ্যের ওজন। খুচরা বাজারে এরই মধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। 

রাজধানী উত্তরা ও বনানীর একাধিক টং দোকানি জানান, ১০ টাকার ব্রেড এখন ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটি ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫ টাকায়। তাদের দাবি— গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যও আগের মতো রাখা যাচ্ছে না।

শুধু পাউরুটি নয়, বিস্কুট, কেক, বাটারবনসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দামও বেড়েছে। সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটির দাম হয়েছে ৬০ টাকা। চায়ের দোকানে আগে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বেকারি পণ্যের দাম করা হয়েছে ১৫ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। আটা-ময়দায় বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডার দাম প্রতি কার্টনে বেড়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস সংকট। পর্যাপ্ত লাইন গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে বাড়তি দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বাড়ায় ওভেন, মিক্সারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে।

বেকারি মালিকদের ভাষ্য, আগে ভোরের আলো ফোটার আগেই যেসব কারখানায় পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির কাজ শুরু হতো, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে এখন দিনের বড় একটি সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বাড়ছে প্রতি ইউনিট পণ্যের খরচ।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন খরচ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সমিতির নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ নিতে না পারে, সে জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কিছু দোকানি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে দাম বাড়ানোর চাপ এখানেই শেষ হচ্ছে না। সমিতির সভাপতির দাবি, ময়দার মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বেকারি মালিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে ছোট উদ্যোক্তাদের ওপর। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেকারি শিল্পের বড় অংশই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ছোট বেকারিগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগও সীমিত। ফলে কাঁচামাল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়লে তার চাপ গিয়ে পড়ে পণ্যের দামে। আবার দাম বাড়ালে কমে যাচ্ছে বিক্রিও।

খুচরা বিক্রেতাদের অনেকে বলছেন, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর কিছু বেকারি পণ্যের বিক্রি কমেছে। আগে দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু পণ্য এখন দিনের শেষেও পড়ে থাকছে। কেউ কেউ বাড়তি দাম শুনে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। বানানীর রিকশাচালক সগির মিয়া বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করেন। আগে যে খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ফরহাদও একই ধরনের চাপের কথা জানান। তার হিসাবে, প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট ও কেক কিনতে যদি ৩০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়, তাহলে মাস শেষে বাড়তি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি খরচও বড় চাপ বলে মনে করেন তিনি। 

তার মতে— মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে তুলনামূলক কম দামের খাদ্য হিসেবে পরিচিত পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের দামও বাড়ায় তাদের খাদ্য ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  গরিব   পাউরুটি   বাড়তি খরচ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close