শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর      ● মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী      ● দেশে ডেঙ্গুতে ৯ মাসে প্রাণ গেছে ২৫০ জনের      ● হামে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু      ● ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত      ● সেপ্টেম্বরে ৩ শতাংশ বাড়ল রেমিট্যান্স      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
এলপিজিতে কঠোর নির্দেশনা
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩২ এএম আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ৯:৩৪ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশব্যাপী গ্যাস সরবরাহ সংকটের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের যে দাম নির্ধারণ করেছে, বিক্রেতারা তার ধারেকাছেও নেই। বাজারে কঠোর তদারকি না থাকায় সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার বিপরীতে তারা রাখছেন ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

এমন অবস্থার মধ্যে অবৈধভাবে মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রভাবই পড়ছে না। সরবরাহ কম থাকা ও বাড়তি দামে কেনার কথা বলে বিক্রেতারা বেশি দামেই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত ছয়শ থেকে আটশ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে অনেক দোকানদার শাটার অর্ধেক নামিয়ে বা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে গোপনে চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (লোয়াব) বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সদস্য প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। 

এক এক বিজ্ঞপ্তিতে লোয়াব জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে এলপিজি আমদানির পরিমাণ সন্তোষজনক।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে আমদানি করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। ফলে দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

লোয়াব জানায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সব সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে লোয়াব সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক পর্যায়ে যেন সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিঙ্গাপুর থেকে এলো এলএনজির নতুন কার্গো

মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে ‘ওয়েন চেং’ এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে। কার্গোটি বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে ‘ওয়েন চেং’ এলএনজিবাহী জাহাজের প্রথম সংযোগ টার্মিনালের সঙ্গে স্থাপন করা হয়। এরপর জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে সেপ্টেম্বরেও বিভিন্ন উৎস থেকে একাধিক এলএনজি কার্গো দেশে এসেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গানভোর, ইন্দোনেশিয়া থেকে টোটালএনার্জির মাধ্যমে এবং অন্যটি অস্ট্রেলিয়া থেকে আরামকো সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে মোট ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০টি এবং নভেম্বরে ৯টি কার্গো আসবে। এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়।

কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  এলপিজি   কৃত্রিম সংকট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close