দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে দেশের ১৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫২০ জন নারী ভিডিপি সদস্যের জন্য জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৯০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; বরং দেশের সম্ভাবনাময় নারী সদস্যদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি জানান, ভাষা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে জাপানে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়মিত জাপানি ভাষায় পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৯০ দিনের এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা জাপানের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জন করবেন, যা তাদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।
দেশের ১৩টি কেন্দ্রে একযোগে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো—আনসার-ভিডিপি একাডেমি গাজীপুর, ভিটিসি নবাবগঞ্জ (ঢাকা), এবং জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয় ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও কক্সবাজার।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘স্কিল আপ’ এবং ‘এডিএসইসি বাংলাদেশ’ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্কিল আপ জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, জাপানের এডিএসইসি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এডসেক বাংলাদেশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের জাপানে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে জাপানের শ্রমবাজারে কেয়ারগিভার (নার্সিং কেয়ার), হোটেল ও আতিথেয়তা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি এবং খাদ্যসেবা খাতে বিদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব খাতে কাজের জন্য জাপানি ভাষায় সমমানের দক্ষতাকে প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আশা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ নারী সদস্যদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাহিনীর সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণার্থীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
কেকে/ এমএস