যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এ হামলায় জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিকেও নিশানা করা হয়েছে। এতে ঘাঁটিতে থাকা একাধিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব বিমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিমানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।
তারা জর্ডানের জনগণকে তাদের দেশে থাকা ‘আমেরিকান স্বার্থে’ আঘাত হানার আহ্বানও জানিয়েছে।
আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে জর্ডান বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর পূর্বে, জর্ডান জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গতকঅল বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন ও একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় দেশটির আরও কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ, বন্দর-ই-খামির, বন্দর আব্বাস শহর ও হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি সেতুই বন্দর-ই-খামির শহরে অবস্থিত। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি রেলস্টেশন ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।
হরমুজগান প্রদেশে সড়ক, রেলপথ ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হরমুজগান প্রদেশের ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দর মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কিশ দ্বীপে বিমান অভিযানের কারণে হরমুজগান প্রদেশের কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপি, ফার্স নিউজ
কেকে/এমএ