যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেৃতত্বাধীন প্রশাসন বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ডের আবেদন পর্যালোচনা ও গ্রিনকার্ড তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর যে স্থগিতাদেশ বা ফ্রিজের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, তা অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জেলা আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানী ওয়াশিংটনের আওতাভুক্ত কলাম্বিয়া জেলার জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা এই রায় দেন।
গেল ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলাসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পর্যালোচনা করা এবং গ্রিনকার্ড প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং ২১ জানুয়ারি থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে।’
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘এই ৭৫টি দেশের নাগরিকরা ‘অপরাধ প্রবণ’, কর্মবিমুখ এবং সরকারি-বেসরকারি সাহায্য-সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব কারণেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।’
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতে আদালতে মামলা করেছিলেন তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের নাগরিকরা। ওয়াশিংটনের কলম্বিয়া জেলা আদালত সেগুলোর মধ্যে একটি।
সোমবার রায় ঘোষণার সময় বিচারক অমিত মেহতা বলেন, “৭৫ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ডের আবেদন পর্যালোচনা ও গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়া ফ্রিজ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর যে যুক্তি দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক আইনের (আইএনএ) সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”
রায় ঘোষণার তিন দিন আগে এই মামলার শুনানি শেষে পর্যবেক্ষণে বিচারক অমিত মেহতা বলেছিলেন, ‘আইএনএর আওতায় কংগ্রেস (যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যতখানি ক্ষমতা দিয়েছে, মন্ত্রণালয় তার চেয়েও অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।’
এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় কোনো আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করল। এর পূর্বে, গেল মে মাসে ম্যাসাচুসেটসের জেলা আদালত একই রায় দিয়েছিল।
সূত্র : ব্লুমবার্গ
কেকে/এমএ