শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ       একমঞ্চে আসছে ৭ ইসলামি দল      বিভ্রান্তিকর উসকানিতে অস্থিতিশীলতার ছক      আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়      ফ্যাসিস্টের পতন হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না: রিজভী      শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ভারত      ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজে সমতা      
জাতীয়
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “দুর্যোগের কারণে কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে সড়ক মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।’’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

তিনি বলেন, “প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। কোথাও বন্যার তীব্র স্রোতে সড়কের অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’’

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম এবং শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত ২১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’’

“প্রথম ধাপে যেসব সড়ক দিয়ে জরুরি পণ্য, খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহণ করা হয়, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।’’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোথাও স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, “জনগণের ভোগান্তি কমানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নিতে হবে। এজন্য প্রকৌশলীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।’’

তিনি বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’’

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে সংস্কারকাজ আরও দ্রুত শেষ করা সহজ হবে।’’

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  সংস্কারের নির্দেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close