থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এক শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর আত্মহত্যা করে।
থাইল্যান্ডের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান জানান, হামলাকারী স্কুলটির একজন শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী প্রসার্ত জান্তারারুয়াংথং।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বাইরে আতশবাজি ফাটানো হচ্ছে বা কেউ কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করছে। পরে একের পর এক গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।
হামলার পর শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসে। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা কর্মীরা জানান, আহতদের পিঠ, বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্কুলের একটি কক্ষে এক পুরুষ শিক্ষককে মৃত অবস্থায় এবং আরেক নারী শিক্ষককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসাকর্মীরা দীর্ঘ সময় সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন বলে প্রশাসনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি চলতি বছরে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে হামলায় একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হন।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা ও বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০২২ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে সাবেক এক পুলিশ সদস্যের বন্দুক ও ছুরি হামলায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২২ জন ছিল শিশু। এছাড়া ২০২৫ সালে ব্যাংককের একটি বাজারে বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২০২৩ সালে ব্যাংককের একটি শপিং সেন্টারে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে দুইজন নিহত হয়।
কেকে/ এমএস