রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য এটি পাঠানো হয়েছে।
৬১ পৃষ্ঠার বিলটি গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহামের নাম অনুসারে বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে গ্রাহাম সোচ্চার ছিলেন। গত জুলাইয়ে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়।
বিলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি খাত। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার তেল-গ্যাস বিক্রির আয় কমিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থায়নের পথ সংকুচিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষমতা হলো রাশিয়ার জ্বালানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কেনা তৃতীয় দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ। ২০২৫ সালের সংস্করণে প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশের পরিবর্তে এবার তুলনামূলক কম মাত্রার শুল্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে আটলান্টিক কাউন্সিল জানিয়েছে, চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীনা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনকে দিতে পারে বিলটি।
এ ছাড়া রুশ সরকারের কর্মকর্তা, ধনকুবের (অলিগার্ক), তাদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য এবং রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের প্রবাহ কমানোর লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বিলটিতে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে, যা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, “আমি সবসময় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিলের পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমি মনে করি, আমরা তা অর্জন করেছি।”
ইউক্রেনকে সমর্থনকারী মার্কিন সংগঠন রেজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় বোমা হামলা বাড়ানোর মধ্যে বিলটি পাস হয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
কেকে/সাশ