চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া দরপত্র ছাড়া একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় এর আগে দরপত্র ছাড়া ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ কমিটির সভায়। অগাস্টেও একইভাবে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ আগস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার।
এর আগেও ৬ আগস্ট একইভাবে ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের আপৎকালীন এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।
বুধবারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল, তা বৈঠকে শিথিল করা হয়েছে। সে অনুযায়ী দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় এ সব পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। তবে কী পরিমাণ জ্বালানি আমদানি হবে, তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।
প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা মান্দেব প্রণালীতেও হুমকি তৈরি করায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্য উৎস থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কখনও আবার দরপত্র ছাড়াই কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।
কেকে/এআই