বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আইন, মার্কিন শুল্কের চাপে ভারত-চীন      ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ফুরিয়ে আসছে, মিত্রদের সহায়তা চায় সৌদি      এনসিপি-জামায়াতে তারুণ্য, নতুন চ্যালেঞ্জে বিএনপি      সাংবাদিকরা আছেন বলেই গণতন্ত্র আছে : তথ্যমন্ত্রী      সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার      ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধানসহ সাজাপ্রাপ্তদের ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে : শামা ওবায়েদ      ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড      
আন্তর্জাতিক
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ফুরিয়ে আসছে, মিত্রদের সহায়তা চায় সৌদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ এএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ১১:৩৩ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক (ইন্টারসেপ্টর) ফুরিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথি ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরকে ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে দেশটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত কমে যাওয়ায় সৌদির চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দেন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুথিরা ড্রোন দিয়ে ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম নগরী মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে তেল অবকাঠামো ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার পর দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া হুথিরা সৌদির বিভিন্ন অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে নৌযান চলাচল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, “সৌদি আরব ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ রয়েছে। কারণ দেশটিকে সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি দেশজুড়ে তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।”

তবে সৌদি আরব এখনো কূটনীতিকে সুযোগ দিতে চাইছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, ওমান ও মিসর ইয়েমেনে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথি প্রতিনিধিদের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বেরও এটি প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনার জবাবে সৌদি আরব তাঁদের কাছে সামরিক সহায়তা চায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় হামলার চেষ্টার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা বলেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সৌদির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনা সহায়তা জোরদারে সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।

এদিকে হুথিরা বুধবার দাবি করেছে, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আকাশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তারা ভূপাতিত করেছে। তবে কখন ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানায়নি তারা। হুথিদের প্রকাশিত ভিডিওতে একটি সৌদি পতাকাযুক্ত এফ-১৫-এর ধ্বংসাবশেষ দেখানোর দাবি করা হলেও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার এবং যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও অঞ্চলটিতে শান্তি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, বর্তমানে তার অর্ধেকেরও কম যাচ্ছে বলে বিভিন্ন হিসাব থেকে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন আনুমানিক ৫০ লাখ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথে পরিবহন হচ্ছে।


সূত্র: এপি


কেকে/সাশ 






আরও সংবাদ   বিষয়:  হুথি হামলা   সৌদি   মিত্রদের সহায়তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close