দেশে হাম ও এর উপসর্গে প্রতিদিনই মৃত্যু বাড়ছে। এর মধ্যে আবার হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছে বা যাদের মৃত্যু হচ্ছে, তাদের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে হামের বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসতর্কতার কারণেই মৃত্যু বাড়ছে। কারণ, অনেকের জ্বর হলে তারা বাসায় নিজস্ব পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যখন জ্বরের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন অনেকে হাসপাতালে যায়, তখন দেরি হয়ে যায়। ফলে তখন আর সময় থাকে না। আবার হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়েও অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যে ছয়জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে। বাকি দুজন সিলেট বিভাগের। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ৭৬৪ জনের। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১৭ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৩ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬৪৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২৭ জন, রাজশাহীতে ১৬, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ২১১, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৩৩, খুলনায় ১৮, রংপুরে ১০ জন ভর্তি হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার যেসব ফল এসেছে, তাতে আরো ৮৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর ১৫ মার্চের পর থেকে ১৬ হাজার ৭৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।
কেকে/এলএ