বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান মেনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি। তিনি বলেন, দেশে নিরপেক্ষ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশে আইনের শাসন ছিল না বলে দাবি করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ, পুলিশ সুপার (পিপিএম-সেবা) মোল্যা আজাদ হোসেন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আহমেদ হোসেনসহ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দেশের বিচার বিভাগের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, “দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, “একজন দক্ষ আইনজীবী রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ। তাই দেশের প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবীর জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের আইনি সেবা দিতে পারেন। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।’’
বহুল আলোচিত তনু হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীত সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বিচারব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে চাকরি হারাতে হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’’
অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলা ও মহম্মদপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার আইনজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ