হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দুলাল মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২০।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের তারণগাঁও এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিলের স্থিরচিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামের রথিন্দ্র দাসের ছেলে অমিত দাস (২২), জিতেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে বিজয় দাস (২২), করগাঁও ইউনিয়নের তারণগাঁও গ্রামের বিধান দাসের ছেলে পিটু দাস ওরফে সম্রাট (২৪), সাধন দাসের ছেলে উজ্জ্বল দাস (৩২) এবং মৃত রথিস দাসের ছেলে জিব দাসকে (২৩) গ্রেপ্তার করে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার খনকারীপাড়া গ্রামের মৃত আবু মিয়া চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুকিত চৌধুরী (৪২), পুরানগাঁও গ্রামের খয়রুদ্দিনের ছেলে হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন চৌধুরী সুমন (৪০), গন্ধা গ্রামের মৃত আরপান আলীর ছেলে, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু (৪৩), একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে, যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান কাশেম (৩৫), জলফু মিয়ার ছেলে, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন মিয়া (৩০), বিল্লালের ছেলে জুবায়ের (২৫), মৃত ছুরুক মিয়ার ছেলে আকাশ (২২), আশকি চৌধুরীর ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সাবেক ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ চৌধুরী ফয়েজ (৩২)।
এ ছাড়াও আকলাকুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে যুবলীগ নেতা রুহেল আহমেদ (৫০), চরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন চৌধুরীর ছেলে ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল জাহান চৌধুরী (৫৫), মৃত ফিরোজ মিয়া চৌধুরীর ছেলে নবীগঞ্জ পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বী আহমেদ মাক্কু (৫০), আব্দুল মতিন চৌধুরীর ছেলে, যুবলীগ নেতা জাবেদুল আলম সাজু (৪৩), মৃত ইয়াউর মিয়া চৌধুরীর ছেলে নবীগঞ্জ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল চৌধুরী (৪০), মৃত আব্দুল হক চৌধুরীর ছেলে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম (৫৫), ছালামতপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে, যুবলীগ নেতা সোহানুর আহমেদ মুসা (৩৫) ও মনসুর আহমেদ (৩২)।
আরও আসামি করা হয়েছে, গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত রমজান মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা পারভেজ মিয়া (৩০) এবং মৃত হাফিজ লস্করের ছেলে ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মিয়া (৪০), জয়নগর গ্রামের সমিজুর রহমান চৌধুরী ওরফে বাচ্চুর ছেলে, নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক নাজিম উদ্দৌলা চৌধুরী (৪২), পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামের ছালেকের ছেলে, যুবলীগ নেতা তোফাজল আহমেদ (৩০), পাঞ্জারাই গ্রামের ইয়াউর রহমান ওরফে ডান্ডার ছেলে শাহজাহান আহমেদ (৪০), গজনাইপুর সাতাইহাল গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল (৫৫), কামারগাঁও গ্রামের মৃত সোনাহর আলীর ছেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৪ নম্বর দীঘলবাক ইউনিয়ন সভাপতি মো. শাহজাহান সাজু (৪০) এবং তারণগাঁও গ্রামের রথিস দাসের ছেলে রঞ্জিত দাস (৪০) ও ক্ষিতিশ দাশের ছেলে যুবলীগ নেতা হিরণ দাশ (৩০)।
শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিঞা জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/এআই