মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল : আট পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ      ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২      ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশীয় উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর      প্রধানমন্ত্রীর সাথে আইএলও মহাপরিচালকের বৈঠক, সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু      মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      সিলেট-নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা      
জাতীয়
মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খোলা কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘একই অপরাধে একজন ব্যক্তির দুই আইনে বিচার হতে পারে না। এ কারণে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে।’

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার হয়নি। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের পর সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন,‘একই ব্যক্তি একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন না। সেনা আইনে তার বিচার হবে। যদি কোনো সিভিল কোর্ট সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে, সেটি পরবর্তীতে আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগেই যেসব আসামি দণ্ডিত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মামলার রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে।’

তিনি বলেন, ‘সেনা আইনের অধীনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে। সিভিল কোর্টে নতুন করে তাকে একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে।’

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে। মাদক পাচার, গোলাগুলির স্পিলওভার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।’        

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সক্ষম বাংলাদেশ

ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তালিকা দিতে হবে। আমরা জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।’

বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত

বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রথম তিনি বিজিবির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সদরদপ্তরে গেছেন। সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি, জনবল, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, যানবাহন, অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহসহ বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই আপাতত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাদক পাচার রোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।’

বিজিবি সদস্যদের পদক প্রদানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর বিজিবিকে পদক দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্যান্য স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়েও বিবেচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close