সুস্থ দেহ ও সচল মস্তিষ্কের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। এটি কেবল হাড়ের গঠন মজবুত করে না, বরং দেহের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের অভাবে ভুগছেন। শরীর যাতে খাবার বা সূর্যালোক থেকে পাওয়া ভিটামিন ডি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে, সেজন্য সকালের রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
নিচে সকালের চারটি অভ্যাসের কথা বলা হলো, যা আপনার শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করবে-
সঠিক নিয়মে সূর্যের আলো গ্রহণ
ত্বকের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ডি তৈরি করার সবচেয়ে ভালো উৎস হলো সূর্যালোক। তবে রোদে পোড়া বা ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। সেগুলো হলো সকালে যখন ইউভি ইনডেক্স কম থাকে, তখন বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস করুন; প্রাকৃতিক সূর্যালোকের ওপর গুরুত্ব দিন এবং কৃত্রিম ট্যানিং বেড এড়িয়ে চলুন; দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার প্রয়োজন হলে সানস্ক্রিন ও সুরক্ষামূলক পোশাক (যেমন : টুপি) ব্যবহার করুন ইত্যাদি।
সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উপস্থিতি
ভিটামিন ডি হলো চর্বিতে দ্রবণীয় একটি উপাদান। এর অর্থ হলো, ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জন্য তা শোষণ করা সহজ হয়। সকালে বড় কোনো খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে ভিটামিন ডি শোষণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য সকালের নাস্তায় এ খাবারগুলো রাখতে পারেন- ডিম, বাদাম ও বীজ; অ্যাভোকাডো ও অলিভ অয়েল; চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন স্যালমন ইত্যাদি।
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে সঠিক সমন্বয়
সূর্যালোক বা খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা বজায় রাখতে ভিটামিন ডি৩ সাপ্লিমেন্ট বেশি কার্যকর; সকালে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার সময় এর সাথে ভিটামিন কে২ গ্রহণ করলে এটি ক্যালসিয়ামকে সরাসরি হাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে; সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৬০০-৮০০ আইইউ এবং শিশুদের জন্য ৪০০-৬০০ আইইউ ডোজের পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বা শরীরের ফ্যাট টিস্যু ভিটামিন ডি-কে ধরে রাখে, যার ফলে এটি রক্তে মিশতে পারে না এবং শরীর তা ব্যবহার করতে অক্ষম হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ ভিটামিন ডি শোষণে বড় ভূমিকা রাখে-শরীরের অতিরিক্ত ওজনের ১৫ শতাংশ বা তার বেশি কমাতে পারলে রক্তে ভিটামিন ডির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়; সকালে নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম আপনার ওজন কমিয়ে এই ভিটামিন শোষণে সরাসরি সহায়তা করে ইত্যাদি।
সকালের এই ছোটখাটো অভ্যাসগুলো আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট বা নতুন খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে আপনার দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবসময় নিরাপদ।
তথ্যসূত্র : ভেরিওয়েল হেলথ
কেকে/এমএ