মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে এ পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচিত অন্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে নির্বাচনের আগে দেশে ফেরেন। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। তবে নজরুল ইসলাম খানও শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ কার্যকর হলে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমলা বা অরাজনৈতিক কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অতীতে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্তকে দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ভুল হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। ‘ওয়ান-ইলেভেন’-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়াও এটিকে একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার হাতে যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, ‘পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
দলীয় সূত্রের মতে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন একাধিক নেতা বিএনপিতে রয়েছেন। ফলে দলনিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা আমলাকে এ পদে আনার সম্ভাবনা খুবই কম।
এ নিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আমি কোনো তথ্য জানি না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে একাধিক নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান।’
কেকে/এমএ