মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নাগরিক সচেতনতায় খোলা কাগজের গোলটেবিল বৈঠক      আজকের শিশুরাই আগামী বাংলাদেশের নির্মাতা: প্রধানমন্ত্রী      শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল      ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ       স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে দুই হাজার ২১৬ টাকা      শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড : হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল      জাতিসংঘে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, প্রচণ্ড বাকযুদ্ধ      
স্বাস্থ্য
জন্মের পর টিকা ও নজরদারি জোরদার করতে হবে: ডা. দীপক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১০ পিএম আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১০:৪৭ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

উচ্চ বিলিরুবিন বা জন্ডিস সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণার কারণে হেপাটাইটিস বি ও সি সম্পর্কে এখনো বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। অথচ হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণের ধরন প্রায় একই হলেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে, কিন্তু হেপাটাইটিস সি-এর টিকা নেই। আবার হেপাটাইটিস সি-এর চিকিৎসা থাকলেও হেপাটাইটিস বি সম্পূর্ণ নিরাময়ের চিকিৎসা নেই; বরং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীতে দৈনিক খোলা কাগজ আয়োজিত বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের ডা. দীপক কুমার মিত্র।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এবিএম খোরশেদ আলম ভূঞা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম, শ্যামলী টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের মো. আবদুল কাদের ভূঁইয়া, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিেিটডের এক্সিকিউটিভ (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. সাখি আজাদ, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, খোলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক প্রণব আচার্য্য ও মো. রবিউল ইসলাম, প্রধান প্রতিবেদক আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

তিনি বলেন, ‘শুধু টিকা বা চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই হবে না। হেপাটাইটিস প্রতিরোধে মানুষের মানসিকতাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং ব্যক্তি, পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।’

ডা. দীপক কুমার মিত্র বলেন, ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রতিরোধব্যবস্থা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে টিকাদান ও নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা এবং আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি ও জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের অন্যতম বড় উৎস হলো মা থেকে নবজাতকের মধ্যে সংক্রমণ। এজন্য নিয়মিত অ্যান্টিনেটাল কেয়ারের সময় গর্ভবতী মায়েদের হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মা থেকে শিশুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তিনি জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, হেপাটাইটিস বি টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলা হলেও এ কার্যকারিতা জন্মের পরপর টিকা দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বার্থ ডোজ ছাড়া বাস্তবে কার্যকারিতা কতটা থাকে, সেটিও মূল্যায়ন করা দরকার। তিনি বলেন, দেশে বিসিজি টিকা জন্মের পর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সেটিকে কার্যকর ‘বার্থ ডোজ’ হিসেবে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। হেপাটাইটিস বি টিকা ও বিসিজিকে একসঙ্গে জন্মের পরপর দেওয়ার বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডা. দীপক কুমার মিত্র বলেন, হেপাটাইটিসের মতো রোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এইচআইভি মোকাবিলায় যেভাবে নিয়মিত সেরো সার্ভেইলেন্স ও বিহেভিয়ারাল সার্ভেইলেন্স পরিচালিত হয়েছে, হেপাটাইটিস বি ও সি-এর ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা থাকা উচিত। তার মতে, বাংলাদেশের জন্য হেপাটাইটিসের জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এইচআইভির চেয়েও বড়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কার্যকর নজরদারির অভাবে অনেক শিশু নির্ধারিত বয়সের আগেই আক্রান্ত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণ সময়মতো বিশ্লেষণ করা গেলে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতো। হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

ডা. দীপক কুমার মিত্র বলেন, স্মলপক্স নির্মূলের মতো হেপাটাইটিস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত মানসম্মত টিকাদান কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব কৌশল ও করণীয় ইতোমধ্যে জানা রয়েছে। নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রয়োজন নেই। বরং বিদ্যমান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ফল তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না বলেই মানুষ অনেক সময় এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার ফল দৃশ্যমান হলেও রোগ প্রতিরোধের সুফল দৃশ্যমান নয়। তাই এ বিষয়ে আরও কার্যকর জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

কমিউনিটি এনগেজমেন্টের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো টিকাদান কর্মসূচি সফল করা সম্ভব নয়। অতীতের এক ডোজের টিকার মতো জোর করে একাধিক ডোজের টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জনগণকে বোঝানো, উদ্বুদ্ধ করা এবং সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ।

অতীতের টিটেনাস টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় মায়েদের টিটেনাস টিকার হার সন্তোষজনক ছিল না। পরে যখন মানুষকে বোঝানো হয় যে, এ টিকা শুধু মাকে নয়, নবজাতককেও প্রাণঘাতী টিটেনাস থেকে সুরক্ষা দেয়, তখন মায়েদের টিকাগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। হেপাটাইটিস প্রতিরোধেও একই ধরনের কার্যকর বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই শুধু একটি গণমাধ্যম নয়, সব গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জন্ম   টিকা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close