ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেছেন, হেপাটাইটিস বি নিয়ে গণমাধ্যমে তুলনামূলক কম সংবাদ প্রকাশ হয়। অথচ জনসচেতনতা বাড়াতে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “হেলথ রিপোর্টারদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখি, হেপাটাইটিস বি নিয়ে সাধারণত লিড নিউজ হয় না। কিন্তু সচেতনতা বাড়াতে সব গণমাধ্যমেরই এ জায়গায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।”
তিনি বলেন, আমি ২০২৩ সালে যখন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হই, তখন হিসাব করে দেখলাম আমাদের আট সদস্য মারা গেছেন, যার মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কামরুল ইসলাম চৌধুরী ভাইসহ প্রায় ছয়জনই লিভার সিরোসিসে মারা যান। আর এর মূল কারণ ছিল হেপাটাইটিস বি। পরে তৎকালীন মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি স্যারের সঙ্গে কথা বলে ডিআরইউ-এর প্রায় ১৬০০ সদস্যকে হেপাটাইটিস বি-র টিকার তিন ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করি। সামান্য সচেতন হলেই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস বা হেপাটাইটিস বি’র মতো জটিল অসংক্রামক রোগগুলোর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। শ্যামলীর একটি হাসপাতালে এক গরিব রোগীর চিকিৎসা বিল ২০ লাখ টাকা হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ পরিবারগুলোর পক্ষে এ ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে শুধু ৫০০ বা ৬০০ কোটি টাকা নয়, বরং প্রতিবছর ২০০০ থেকে ৩০০০ কোটি টাকার একটি নির্দিষ্ট থোক বরাদ্দ দেওয়া উচিত। এটি অন্তত পাঁচ বছর বজায় রাখলে স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের নিজ পকেট থেকে দেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ খরচের যে চাপ রয়েছে, তা অনেক কমে আসবে এবং কোনো গরীব মানুষকে ভিটেমাটি বিক্রি করতে হবে না।
তিনি উপস্থিত বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সচেতনতামূলক গোলটেবিল বৈঠকে খোলা কাগজ গণমাধ্যম হিসেবে সচেতনতা সৃষ্টির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
খোলা কাগজের সম্পাদক আহসাহ হাবীব লেলিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এবিএম খোরশেদ আলম ভূঞা, শ্যামলী টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের মো. আবদুল কাদের ভূঁইয়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. দীপক কুমার মিত্র, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. সাখি আজাদ, খোলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক প্রণব আচার্য্য ও মো. রবিউল ইসলাম, প্রধান প্রতিবেদক আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
কেকে/ এমএস