রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ইয়াবা তৈরির দুই কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। এ সময় ইয়াবা তৈরির দুইটি মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও ৩১ হাজার ২৭২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযানে একটি ওয়ান শুটারগানসহ একাধিক মামলার আসামি আলোচিত সন্ত্রাসী মো. হাসান ওরফে ‘মাগুর হাসান’ (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে এ দুই অভিযান চালানো হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) বসিলায় র্যাব-২’-এর সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে করে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২’-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে মোহাম্মদপুর থানার বসিলা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলসহ ইয়াবা ব্যবসায়ী ফয়সাল ইসলাম মিঠুকে (৪২) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৫৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন উদ্ধার করা হয়।
এরপর ফয়সালের দেওয়া তথ্যানুযায়ী কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেট এলাকায় আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে কারখানার মালিক ও কেমিস্ট কাম ইয়াবা ডিলার নাছিরকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও ১৯ হাজার ৫২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, নাছির নিজেই ইয়াবা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।
এদিকে একই রাতে মোহাম্মদপুরের বোটঘাট এলাকায় পৃথক অভিযানে একটি ওয়ান শুটারগানসহ আলোচিত সন্ত্রাসী মো. হাসান ওরফে মাগুর হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, তিনি এর আগে বিভিন্ন মামলায় পাঁচবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
র্যাবের তথ্যানুযায়ী, ফয়সাল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে গুলশান, তেজগাঁও, ডেমরা ও মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, বলপূর্বক গ্রহণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চোরাই মাল কেনাবেচাসহ চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া হাসান ওরফে মাগুর হাসানের বিরুদ্ধে ভোলার লালমোহন ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মাদক, চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১০টি মামলা এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
র্যাব-২ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেকে/এমএ