জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের উপস্থিতিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। এরপর দিনভর ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে এই সহিংসতার আঁচ গিয়ে পৌঁছায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্তও।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপরও হামলা চালান।
দিনের শুরুর দিকে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ছিলেন জকসুর সহসভাপতি রিয়াজুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিবসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নেতা ও সাংবাদিক।
জকসু নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতি কায়েমের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং শিবিরকে মব কালচার আমদানির চেষ্টার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারজন বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কেকে/এমএ