বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) তাপসী রাবেয়া বসরী হলের পাশের সড়কজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ৪৫০ আবাসিক শিক্ষার্থী। পচনশীল বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব। পাশাপাশি সাপ, গুইসাপ ও শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আনাগোনায় তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পাশের একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ময়লা ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মাঝে মধ্যে সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে ময়লা অপসারণ করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার একই স্থানে ময়লার স্তূপ জমে যায়।
হলের পাশের সড়কে জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অনেক শিক্ষার্থী নাকে হাত দিয়ে কিংবা মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান স্মৃতি বলেন, ‘হলের সামনের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ময়লার স্তূপ থেকে শুধু দুর্গন্ধই ছড়ায় না, এখানে সাপ, গুইসাপ, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীও দেখা যায়। ফলে দিন দিন হলের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আমরা চাই, হলের যাতায়াতের রাস্তার পাশে ময়লা না ফেলে অন্যত্র নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করা হোক।’
তাপসী রাবেয়া বসরী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুনা খন্দকার বলেন, ‘হলের রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি করাটাই একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানে সরকারি ক্লিনারদেরও যেন কোনো জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয় না—তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেন। অথচ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এতে যেন কারও কোনো সমস্যা নেই। কারণ কষ্টটা তো শিক্ষার্থীদেরই হচ্ছে, আর প্রশাসন আমাদের মানুষই মনে করে না।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ময়লার স্তূপের কারণে মাছি, মশাসহ বিভিন্ন জীবাণুবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। বৃষ্টির সময় ময়লা ও বর্জ্য ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ আরও নোংরা হয়ে যায়। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হয়।
তাদের অভিযোগ, ময়লা অপসারণের পর কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আবার ময়লা ফেলা হচ্ছে। ফলে সাময়িকভাবে ময়লা অপসারণ করে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ময়লা ফেলার স্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়মিত ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রভোস্ট শারমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। এরপরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বিষয়টি পুনরায় জানানো হয়েছে এবং স্টেট শাখাকেও অবহিত করা হয়েছে। মূলত ছেলেদের হলের ক্যান্টিন থেকে ময়লা এনে এখানে ফেলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগাড় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত ময়লার স্তূপ সরিয়ে হলের পাশে পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, বর্জ্য ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের মতে, তাপসী রাবেয়া বসরী হলের পাশ দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান না হলে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কেকে/এআই