জয়পুরহাটের কালাইয়ে এবার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। এ উপজেলার ২০টি মাদরাসার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে পুর ফাজিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ২১ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে একজনও পাশ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার শূন্য শতাংশ।
উপজেলার সার্বিক ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার ২০টি মাদরাসা থেকে ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী দাখিল সমমান পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করেছে মাত্র ১৩৭ জন। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশে। অথচ মাদরাসা বোর্ডের ফলাফলে পাশের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফল শিটে ২০ শতাংশের নিচে যে সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো হলো— কালাই পৌর শহরের থুপসারা দাখিল মাদরাসা থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১ জন, পাশের হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মাত্রাই দাখিল মাদরাসার ১৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২ জন, পাশের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। কাঁটাহার দাখিল মাদরাসার ২০ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৩ জন, পাশের হার ১৫ শতাংশ। ভূগোইল দাখিল মাদরাসার ৩৩ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৫ জন, পাশের হার ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং শিকটা দাখিল মাদরাসা থেকে ২৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৪ জন, পাশের হার ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া বেগুনগ্রাম ফাজিল মাদরাসা থেকে ২৮ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জন পাশ করেছে, পাশের হার ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
উপজেলার ২০টি মাদরাসার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬২ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। পাশ করেছে ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী। ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জনই ফেল করেছে। এর মধ্যে একটি মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল করেছে। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যাকাডেমিক তদারকি নিয়ে এমন ফলাফল নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুর ফাজিল মাদরাসার অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেরদৌস আলী বলেন, ‘আসলে ফেল শব্দটি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দ্বন্দই ফেলের গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাদের।’
অভিভাবকরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থী পাশ না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা কেন ফেল করছে, সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।
পুর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সাহেব আলী বলেন, ‘আসলে শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জবাব দেওয়ার মত ভাষা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুনছুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাশ না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে সব প্রতিষ্ঠানে পাশের হার কম, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাশ না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করবো।’
কেকে/এআই