সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯৯৪, মৃত্যু তিনজনের      হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৩২      মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা কারাগারে      জামায়াত বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করে : রাশেদ      নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল      ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে যাক, রাজনীতি চলবে নিজের পথে : দীনেশ ত্রিবেদী      রংপুরে শিক্ষক ও স্ত্রী-সন্তানদের শেষকৃত্য সম্পন্ন      
জাতীয়
এআই ব্যবহারে আরও সহজ হবে নাগরিক সেবা: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সরকার আরও দক্ষ হবে এবং নাগরিক সেবা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরকার আরও দক্ষ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নাগরিক সেবা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার দেখানো নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা। আমরা এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নাগরিকরা সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রশাসন হবে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর এখন শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের গতি বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রযুক্তি কখনো মানুষের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের বিকল্প নয়। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রজ্ঞাতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।’

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগের ওপর। এই জ্ঞান শ্রমসাধ্য সরকারি কাজ ও সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো একটি স্মার্ট, দক্ষ ও জনকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা। স্মার্ট জনপ্রশাসন নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত, সহজ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।’

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে। তাই এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের মানুষকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কিছু প্রচলিত বা রুটিন কাজের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। এজন্য কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা ও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে হিউম্যান-এআই সহযোগিতা বাড়ানোই হবে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত কাজ করছে। খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা কম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বাকি সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন উপদেষ্টা।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  এআই ব্যবহার   নাগরিক সেবা   জনপ্রশাসন উপদেষ্টা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close