শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।
রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই নৃশংসতার শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও মতের অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ। বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তাদের স্বজনরা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি, তাঁদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং বছরের পর বছর ধরে চলা অপেক্ষার বেদনার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে।
তবে বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও বহু পরিবার এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুমের শিকার অনেক মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে গুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘মানবাধিকার কমিশন বিল’ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাহিদ ইসলামের মতে, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না করলে বাংলাদেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধ আইনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
কেকে/ এমএস