নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল। এ সময় সরকারি গাড়ি আটকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় বর আল আমিন, কনে জেরিনসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে সমাসপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আল আমিনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের জুয়েলের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে জেরিনের বিয়ে হয়। জেরিন সমাসপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। শনিবার বরপক্ষের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়।
বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এ সময় বর আল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ, আল আমিনকে সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় একদল লোক গাড়িটি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলারও চেষ্টা করা হয়।
পরে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বর আল আমিন, কনে জেরিনসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাল্যবিবাহ সংঘটন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুন্নাফ, রাব্বি, ইউনুস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আসামিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল লোক সরকারি গাড়ি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।”
তিনি বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। আরও আটকের চেষ্টা চলছে।”
আত্রাই থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বর-কনেসহ তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এটি বাল্যবিবাহের ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”
কেকে/সাশ