গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্কের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় পার্কের কয়েকজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সালমা মোস্তারী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী সালমা মোস্তারী (৪৪) ঢাকার বাড্ডা থানার গুলশান-ভাটারা এলাকার মৃত জাফর আহমেদের মেয়ে। আহত অন্য দুজন তার দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিম (১৭)।
অভিযুক্তরা হলেন চন্দন কুমার (৪০), মাসুদ রানা (৪০) ও ধনজয় ধনা (৩৫)।
সালমা মোস্তারীর অভিযোগ, শনিবার দুপুরে কোর সাফারির নির্ধারিত টিকিট নিয়ে দুই সন্তানকে সঙ্গে করে মিনিবাসে ওঠেন তিনি। মিনিবাসের আসনগুলো ময়লা, কাগজ ও পলিথিনে অপরিষ্কার ছিল। বিষয়টি তিনি মিনিবাসের এক কর্মচারীকে জানালে ওই কর্মচারী উত্তেজিত হয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
সালমা মোস্তারী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় একপর্যায়ে মিনিবাসে থাকা অন্য দর্শনার্থীরাও আমার দুই ছেলের সঙ্গে প্রতিবাদ করেন। পরে কোর সাফারি থেকে বের হয়ে গাড়ি থেকে নামার সময় কয়েকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার দুই ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে পার্কের অফিসে নিয়ে মারধর করা হয়। আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এতে আমরা তিনজনই আহত হই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি ফোন ভেঙে ফেলা হয়। সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের তিনজনকে পার্কের অফিসে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তারা।
সালমা মোস্তারী বলেন, ‘এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে দর্শনার্থীরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। আমি নিজেও তখন পার্কে ছিলাম। ঘটনাটি জানার পর দর্শনার্থীদের ডেকে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। কারণ এক হাতে তালি বাজে না। আমাদের কর্মচারীদেরও দোষ থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আহত শুধু দর্শনার্থীরাই হননি, আমাদের কয়েকজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পার্ক কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবে।’
শ্রীপুর থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস