সাগর-রুনি হত্যায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’ : চিফ প্রসিকিউটর
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ার
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জড়িত থাকার সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ‘কল ডিটেইল রেকর্ড-সিডিআর’ পর্যালোচনায় ওই সূত্র পাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি আমিনুল ইসলাম।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ব্যাপারে আমাদের যে ‘ক্লু’টা আমরা পেয়েছি, সেটি আপনাদেরকে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এইটুকুন বলতে পারছি যে, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সঙ্গে সাগর-রুনির এই ঘটনার একটা কানেকশন সিডিআর পর্যালোচনায় পাওয়া যায়।’
মো. আমিনুল ইসলাম
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) করছে তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলা সরাসরি তদন্ত করছে না। অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওই সূত্র পাওয়া গেছে।’
প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার তথ্য আমাদের নজরদারিতে আছে এবং আরও তদন্ত হওয়ার পরে আমরা আরও নির্ভরযোগ্য কোনো কিছু পাওয়া গেলে যে পিবিআই, যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার যারা আছেন, তাদেরকে আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’
ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আর বলতে পারছি না।’
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন মাহির সরওয়ার মেঘ। সাথে ছিলেন তার মামা নওশের আলম রোমান।
প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। চার দিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় হাই কোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় র্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট মামলাটির তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
হাই কোর্টের নির্দেশের পর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআই প্রধানকে ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে এই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলার তদন্ত চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে বেশ কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আরও ছয় মাস সময় দেয়।
এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তারা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খান।
তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় পড়বে কি না, একজন সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের এখানে যেহেতু এটা ‘ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অফেন্স’ না, এটা একটা স্বতন্ত্র হত্যা মামলা। সেই কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে পাওয়া নতুন তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে।’
ট্রাইব্যুনালে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ :
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার কথা শুনে তদন্ত সম্পর্কে জানতে রোববার বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন এ দম্পতির সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। সঙ্গে ছিলেন তার মামা নওশের আলম রোমান।