সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক রেকর্ডপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ চিঠি পাঠানো হয়।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও চার সদস্যের অনুসন্ধান দলের প্রধান জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্যাদি ও নথি কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মেয়াদের প্রশাসনিক নথির পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত দুইটি স্মারকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়।
দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি অনুসন্ধান পর্যায়ে (রয়েছে)। অনুসন্ধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল দুদক।
বৃহস্পতিবারের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে দুদক কর্মকর্তা জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।
যে নথির ভিত্তিতে দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকার সময় বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘চরম দুর্নীতি করেছেন’।
কয়েকজন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে সেখানে।
এছাড়াও ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান, দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেছে দুদক। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে—বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদীতে কর্মরত কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের অনুলিপি সরবরাহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সাবেক সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম ও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিয়ে নিজস্ব সুরক্ষাবলয় (সেফগার্ড) তৈরির অভিযোগ রয়েছে। কমিশন এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতেই এই ব্যাপক অনুসন্ধান ও নথি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
কেকে/এমএ