ঢাকা উত্তর সিটির আদাবর থানা এলাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্বদানকারী শাহীনসহ তিনজনকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে থানার শেখেরটেক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাহীন (২৫), ফরিদ (৩৫) ও শিকদার লিটন (৩৪)।
বিকালে মোহাম্মদপুর বসিলা র্যাব-২’-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র্যাব-২’-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের গুলি, ৯ রাউন্ড চীনা রাইফেলের গুলি, একটি সামুরাই, ৩ হাজার ৩৩৫ পিস ইয়াবা এবং ৫ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, উদ্ধার হওয়া গুলোর মধ্যে ২৭ রাউন্ড গুলি সম্প্রতি বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের অংশ।
সংবাদ সম্মেলন আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান মো. আনোয়ারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী গ্রুপটির বিভিন্ন সদস্য র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলে একপর্যায়ে গ্রুপটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
এই সুযোগে গ্রেপ্তার শাহীন গ্রুপটির কার্যক্রম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ করে গ্রুপটিকে আবারও সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। গত ১১ এপ্রিল আদাবরে এক পাঠাও ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহীনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সম্প্রতি এক সিএনজি চালকের কাছে চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগও রয়েছে শাহীনের বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় র্যাব-২ শাহীনের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোররাতে শেখেরটেক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে শাহীন, ফরিদ ও শিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সম্প্রতি র্যাবকে লিড এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে র্যাব-২সহ অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে কেউ হারানো অস্ত্র বা গোলাবারুদ জমা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং তথ্য ও অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে সহযোগিতাকারীকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে র্যাব-২ ও অন্যান্য ব্যাটালিয়নের হটলাইনে গোপনে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-২।
র্যাব-২ জানায়, গ্রেপ্তার শাহীন নামে শেরেবাংলা নগর ও আদাবর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ চারটি মামলা রয়েছে। আর ফরিদের নামে মোহাম্মদপুর থানায় নন-এফআইআরের একটি মামলা রয়েছে।
কেকে/এমএ