সৌদি আরবের মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের পর হামলায় হুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে জোটটি।
তবে হুথি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজকে দেওয়া এক সামরিক সূত্র সৌদি জোটের এ দাবি ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই সূত্রের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে সৌদি আরবের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন এ অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনটি মক্কার নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করে জোটটি। তবে হুথিরা মক্কা কিংবা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলাকে পবিত্র দুই মসজিদকে লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মুসলমানদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জোটটি।
এদিকে হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, জোট বাহিনী সানায় ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি জোট আরও জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় intercept করে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হুথিরা এডেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও হুথিদের সীমান্তপারের সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে চলতি বছর জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা এবং সৌদি ভূখণ্ড ও জাহাজে হামলা শুরুর পর পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি হুথিবিরোধী সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
কেকে/সাশ