ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্লট মালিক বা আবেদনকারী, স্থপতি ও প্রকৌশলীর যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অঙ্গীকারনামা জমা ও অঙ্গীকারনামা পরিপালনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লক্ষ্যে ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা সুনির্দিষ্ট করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে রাজউক। এর ফলে ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অঙ্গীকারনামায় বিদ্যমান বিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ভবন নির্মাণের অনুমোদনের আগে অঙ্গীকারনামা জমা না দিলে এবং পরে অঙ্গীকারনামা যথাযথভাবে পরিপালন না করলে ব্যবস্থা নেবে রাজউক। রাজউকের এ নিদের্শনা কার্যকর হলে ভবন নির্মাণে জবাবদিহি বাড়ানো, কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়ম কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মোহাম্মদ মনিরুল হক স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা জমা ও পরিপালন সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ৯’-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী প্রস্তুত করা অনুমোদিত অঙ্গীকারনামার নমুনা সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও জোনে পাঠানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ইমারতের নকশা অনুমোদনের আবেদন দাখিলের সময় প্লট মালিক বা আবেদনকারী, স্থপতি ও প্রকৌশলীর যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অঙ্গীকারনামা জমা এবং এ জন্য ৩০০ টাকা মূল্যমানের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিলের বিধান রয়েছে। এখন থেকে এ অঙ্গীকারনামা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। অঙ্গীকারনামায় প্লটের মূল মালিক বা আবেদনকারীর পাশাপাশি ভবনটির নকশাকারী স্থপতি ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও স্বাক্ষর থাকা আবশ্যিক করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও কারিগরি ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন—এ মর্মে ৩০০ টাকা মূল্যমানের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান হলে কারিগরি ব্যক্তির নিয়োগপত্রও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নকশা প্রণয়ন, কারিগরি তদারকি, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ অঙ্গীকারনামা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্লট মালিক বা আবেদনকারী, স্থপতি ও প্রকৌশলীর নিজ নিজ দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ ও নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যে অঙ্গীকারনামার নমুনাটি প্রস্তুত করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং পরে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে।
এদিকে, এখন পর্যন্ত দাখিল করা ও ভবিষ্যতে দাখিলযোগ্য নকশা অনুমোদনের আবেদনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত অঙ্গীকারনামা যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য রাজউকের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও জোনকে নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে অফিস আদেশ।
এ নিয়ে রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহীনুর আলম দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘ইমারতের নকশা অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে প্লট মালিক বা আবেদনকারী, স্থপতি ও প্রকৌশলীর যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত অঙ্গীকারনামা জমা না দিলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হবে না। এ ছাড়া, অঙ্গীকারনামার শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন না করলে নকশার অনুমোদন বাতিল করা হবে।’
কেকে/এমএ