শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটির ঘোষণা      ● রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়      ● হাম উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২৫২      ● এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বরিশাল      ● এইচএসসি পরীক্ষা : ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী      ● পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ বেশি ছেলেদের      ● মিরপুর-১০-এ ফের পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ      
জাতীয়
গামা প্রযুক্তিতে বাড়বে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা : কৃষিমন্ত্রী
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণে গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গাজীপুরের শ্রীপুরে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রে স্থাপিত গামা ইরেডিয়েশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিনির্ভর দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আম, কাঁঠাল ও আনারসের মতো দেশীয় ফলের আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে না পারায় সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এসব পণ্যের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা বাড়তে পারে।’

কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য অপচয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গামা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেঁয়াজ, আলু, ফলমূল ও শাকসবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ বছর দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতেও যেন এক কেজি পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।’

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমদানি করা খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিনা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ কিউরি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি এবং রপ্তানির আগে কৃষিপণ্যের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রটি নির্মাণের কার্যাদেশ ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না আইসোটোপ অ্যান্ড রেডিয়েশন করপোরেশন (সিআইআরসি)। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির এটিই প্রথম বড় ধরনের ইপিসি (প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ) প্রকল্প।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন শি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামসহ দেশি-বিদেশি কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  গামা   প্রযুক্তি   বাড়বে   কৃষিপণ্য   রপ্তানি   সম্ভাবনা   কৃষিমন্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close