স্থাবর ও অস্থাবর মিলে প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ সাত হাজার টাকার সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী। তবে, তার ঋণ চট্টগ্রামের বাকি প্রার্থীদের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। বিপুল সম্পদের পাশাপাশি ঋণ ও মামলার সংখ্যার এই চিত্র ভোটারদের কাছে আসলাম চৌধুরীর আর্থিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ঋণখেলাপির দায়ে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল
বর্তমানে তার মোট ঋণ রয়েছে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫টি ব্যাংকে ও অন্যান্য মিলে তার ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এছাড়াও জামিনদার হিসেবে তার ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৫৯ কোটি টাকা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে ২৮৫ কোটি টাকা।
তার ঋণের পরিমাণ সম্পদের তুলনায় ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। যদিও আসলাম চৌধুরী নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করেছেন- এসব ঋণের বেশিরভাগই জামিনদার ও পরিচালকত হওয়ার সুবাদে হয়েছেন বলে ।
মনোনয়নপত্রের সাথে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসলাম চৌধুরীর ঋণ বেশি হলেও তার নগদ অর্থও অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি। বর্তমানে তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১১ কোটি টাকা। এছাড়াও মামলার দিক থেকে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।
তার রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৩২টি। এর মধ্যে নিজ এলাকা সীতাকুণ্ড উপজেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ছয়টি, চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় পাঁচটি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় এনআই অ্যাক্টের মামলা আছে ৬৭টি, ঢাকায় রাজনৈতিক মামলা রয়েছে দুইটি। সর্বমোট তার মামলার সংখ্যা ১৩২টি। তবে ৮০টি মামলা চলমান থাকলেও ৫২টি মামলা ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে খালাস হয়ে গেছে।
আসলামের প্রধান আয়ের উৎস ব্যবসায়। এই খাতে তার বছরে আয় হয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। শেয়ার, বন্ডে আয় মাত্র পাঁচ হাজার ৩৪১ টাকা। তার ব্যাংক জমাও মাত্র এক লাখ ২৩ হাজার ৪২ টাকা। আর বৈদেশিক মুদ্রা আছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকার। এছাড়াও কোম্পানির শেয়ার আছে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য মিলে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আর স্থাবর সম্পদ আছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
হলফনায় উল্লেখ আছে, আসলাম চৌধুরী ব্যবসায়ী স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ১৩ হাজার। আর একমাত্র ব্যবাসায়ী মেয়ে মেহেরীন আনহার উজমার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি ৩২ লাখ ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এছাড়াও মেয়ের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা আর স্থাবর সম্পদ নেই।
সব মিলিয়ে, হলফনামায় প্রকাশিত বিপুল ঋণ, অতীতের ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিলের নজির ও মামলার ভারী বোঝা আসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। নির্বাচনি অঙ্গনে তার উপস্থিতি ভোটারদের সামনে আবারও সেই পুরোনো প্রশ্নই সামনে আনছে-এত দায় ও বিতর্ক নিয়ে কেউ কতটা দায়িত্বশীলভাবে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
কেকে/এমএ