ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার কড়া জবাব দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বক্তব্যকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।’
বিক্ষোভ নিয়ে ডোনাল ট্রাম্পের সতর্কবার্তার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘দেশের সমস্যার সমাধানে ইরানিরা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বাঘাই লেখেন,
‘ইরানিরা নিজেদের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে এবং কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।’
গেল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানের খোলাবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। এরপরই বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন নাগরিকরা। শুক্রবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।
এরইমধ্যে ইরানের এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে সাতজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন করে আরও অনেক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
তেহরান ও ইসফাহান থেকে শুরু করে লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ বহু এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা শাসনব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যানাল
কেকে/এমএ