ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের দ্বিতীয় দিন আজ রোববার (৪ জানুয়ারি)। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ মেলা উদ্বোধন করার পর থেকে ক্রেতা দর্শনার্থীদের আনাগোনা খুব একটা নেই। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম। তবে, সরকারি ছুটির দিনের অপেক্ষা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতবারের তুলনায় এবার বেশি জমজমাট হবে আশাব মেলার আয়োজক ও স্টল বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীদের।
পূর্বাচল নতুন শহর বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে এবারের মেলায় নেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব। জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধ ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের সম্মানে এ বছর মূল ভবনের প্রবেশদ্বারে কোন প্যাভিলিয়ন রাখা হয়নি। বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণায় দুই দিন পর চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মেলার এক কর্নারে সম্প্রতি শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ও মীর মুগ্ধসহ জুলাই ২৪’-এর আন্দোলনের স্মৃতি চিহ্ন ও ফটোকার্ড রাখা হয়েছে। তবে মূল ফটকে কোন বার্তা বা কারো আদলে করা হয়নি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান (ইপিবি) হাসান আরিফ বলেন, ‘মেলায় নতুনত্ব থাকছে এবার। প্রধান উপদেষ্টা নতুন উদ্যোক্তা তৈরির যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে আলোকে এবার যারা স্টল পেয়েছেন খরচ তুলনামূলক কম। তাই তাদের পণ্যের দাম আগের তুলনায় কম হাঁকাবে, প্রদর্শনীর জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। গত বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে এক মাস পিছিয়ে যাওয়ায় একটা হিমসিম পরিস্থিতি ছিলো। কিন্তু এবার সময়মতো মেলার সব আয়োজন হলেও চালু করা যায়নি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতেই বিরতি নিতে হয়েছে। আমরা এবারের মেলাকে প্লাস্টিক ও পলিথিন মুক্ত ঘোষণা করেছি। মেলা সফল করতে সব রকম আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেলায় এবার ছোট-বড় মিলিয়ে প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সংখ্যা ৩২৭টি। সাতটি বাহিরের দেশ অংশ নিয়েছে মেলায়। এ সংখ্যা বাড়াতে কাজ করবো।’
স্টল পাওয়া ব্যবসায়ী জুয়েল ভূঁইয়া বলেন, ‘এবারের মেলায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নাই। তাই, এ মেলায় আমরা স্থানীয়রা পুরোপুরি হতাশ হয়েছি।’
স্টল বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ী হোম টেক্সের বিক্রয়কর্মী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মেলায় শীতের পোশাকগুলোর চাহিদা বেশি। বিক্রিও বাড়বে। তবে প্রবেশ টিকেটে অনলাইন আর স্ব শরীরের উভয় পদ্ধতিতে হওয়ায় ভোগান্তির কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
মেলা সূত্রে জানা যায়, এবার প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ১০০টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৭টি, জেনারেল স্টল, ফুডকোর্ট, মিনি স্টল, প্রিমিয়ার স্টল প্রায় ১৪০ টি। এছাড়া মূল প্যাভিলিয়নের বাইরে খোলা স্থানে আরও ১২-১৫টি ফুড স্টল রয়েছে। এবারও বাণিজ্য মেলায় ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিদেশী সাতটি স্টলে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। রপ্তানিতে দেশীয় পণ্য উন্নত দেশের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক আর প্রদশর্নের মূল উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’
মেলার ঘুরতে আসা এএইচবি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থী মাহিরা তাসফি প্রভা বলেন, ‘তারুণ্যের আয়োজন রাখা এ মেলার মূল আকর্ষণ বললেও প্রবেশ টিকেটে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করা হয়নি। টাকা আরও কমানো দরকার ছিলো। মেলার পাশে হকারদের দৌরাত্ম্য আর ছিনতাইকারি ও পকেটমার রয়েছে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
কেকে/এমএ