আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ জনগণকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো তৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রবেশ করতে পারবে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ সম্পর্কে জানানো হয়, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে মোট গ্রেফতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে।
মাদকবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা ও ১ হাজার ৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ২ হাজার ৩৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, চোলাই মদসহ নগদ অর্থ ও যানবাহন জব্দ করা হয়।
এছাড়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কভাবে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানানো হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ দমন এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্তও সভায় নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও মাদক দমন এবং শান্তি বজায় রাখতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
কেকে/ এমএস